নেপথ্য নায়ক এক সরকারি কর্মকর্তা
মাগুরার শালিখায় চাউল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির ভিডিও ধারণ ও সংবাদ পরিবেশন করায় দুই সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজি মামলা!
- আপডেট সময় : ০৮:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
মাগুরায় আবার ফ্যাসিবাদের পদোধন্নি শোনা যাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার আমলে যেমন সাংবাদিক দমনে আইন আদালতকে ব্যবহার করা হোত। বর্তমান বিএনপি আমলেও সেই ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই ধারা বর্তমান শাসন ক্ষমতায় থাকা গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এর পরিপন্থী এবং স্বাধীন সংবাদপত্রের কন্ঠরোধ করার একটা কৌশল বলে মনে করছেন ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র – জনতা ও বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক সমাজ।
প্রশাসনের কাজ হলো সংবাদপত্রে বা গণমাধ্যমে কোন অনিয়ম দুর্নীতি বা সমস্যা সংকটের সংবাদ পরিবেশিত হলে সেটির একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্য মিথ্যা যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
স্বাধীনতাত্তোরকালে এটাই প্রাশাসনিক নিয়মের ধারাবাহিকতা। কিন্তু সেই রীতি নীতির বত্যয় ঘটিয়ে কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নিজেদের মহাসাধু প্রমাণ করতে সাংবাদিকদের নামে মামলা ঠুকে দিয়ে নিজেদের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।এটা স্পষ্ট সাংবাদিক হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অপরাধ।
তারেক রহমানের শাসনামলে এ ধরনের অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ড চলবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার হুশিয়ারি দেওয়া হলেও সেটি কানে ঢুকছে না দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের। এ বিষয়ে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।
মাগুরার প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজেদের সতী সাধ্যি বা মহাসাধু প্রমাণ করতে সব দোষ সাংবাদিকদের কাঁধে চাপিয়ে নিজেরা সেইফ এক্সিট নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তারা নিজেদের জনগণের সেবক নন বরং শাসক ভাবছেন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। মুল বিষয়ে আসি।
রোজার ঈদে সরকার দেশের গরীব দুঃখী অসহায় মানুষের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করার জন্য বিনামুল্যে চাউল বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেয়। সারাদেশের ডিসি,টিএনও এবং ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই চাউল প্রতিজন কার্ডধারীকে ১০ কেজি হারে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
চাউল বিতরণের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের ওপর এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়ে।
তারা চাউল বিতরণকালে১০ কেজির স্থলে ৭/৮ কেজি হারে বিতরণ করেন।
অভিযোগ পেয়ে মাগুরা জেলার ২/৩ জন সাংবাদিক শালিখা উপজেলার বুনাগাতি ইউনিয়ন পরিষেদে সরেজমিনে উপস্থিত হন। তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনে সুবিধাগ্রহণকারী গরীব দুঃখী মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের বক্তব্য ফেসবুক লাইভে প্রচার করেন।
এ সময় এই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বার এবং ইউপি প্রশাসক সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাঁধা প্রদান ও সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি তারা সাংবাদিকদের গায়ে ধাক্কা দেন ও চাঁদাবাজ বলে গালি দেন।
সাংবাদিকদ্বয় তাদের সাথে এই অসদাচরণের বিষয়টা মোবাইল ফোনে জেলা প্রশাসক মাগুরা ও শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান ও প্রতিকার চান। কিন্তু জেলা প্রশাসক ও টিএনও কোন ব্যবস্থা নেন নি। বরং টিএনও বনি আমিন সাংবাদিকদের চাঁদাবাজ বলে কুটুক্তি করেন। একজন সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার এ ধরণের আচরণ সৃষ্টাচার বহির্ভূত এবং চাকুরি শৃঙ্খলা ভঙ্গ জনিত অপরাধ।
বুনাগতি ইউনিয়নের গোটা বিষয়টি ঐ ২ সাংবাদিক তাদের নিজ নিজ পত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়ায় (সচিত্র) প্রচার করেন। মাগুরা ২ নং আসনের এমপি ও মন্ত্রী এডঃ নিতাই রায় চৌধুরীকেও বিষয়টি অবগত করেন।
এ ছাড়া সাংবাদিক ফারুক আহমেদ ও সাহেব আলী যৌথভাবে একটি লিখিত অভিযোগ দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেন। এই লিখিত অভিযোগে শালিখা উপজেলার টিএনও বনি আমিন ও বুনাগাতি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে অভুযুক্ত করা হয়।
এই বিষয়টি জানতে পেরে টিএনও বনি আমিন এবং প্যানেল চেয়ারম্যান জিয়া নিজেদের অপরাধ ধামাচাপা দেবার নিমিত্তে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে সাংবাদিক ফারুক আহমেদ ও সাহেব আলীসহ ৪/৫ জনকে আসামি করে শালিখা থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন চাউল চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ইরুব হোসেন জিয়া।
শালিখা থানার মামলা নং ১৬/২৬ তারিখ। বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩৮৫ ধারা।বেআইনিভাবে যাওয়া ও চাঁদার দাবি করার মামলা করেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, এটা একটা খারাপ নজির। মাগুরার প্রশাসন কর্মকর্তাদের এ ধরণের আচরণ সম্পূর্ণ অপেশাদার এবং সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহারের সামিল। তাদের মনে রাখা উচিত শাক দিয়ে মাছ ঢেকে রাখা যায় না।
মাগুরার ২ সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছেন। তারা লিখিত অভিযোগ করেছেন মন্ত্রীর দপ্তরে। সেটি অবশ্যই তদন্তের দাবী রাখে। হবেও ইনশাআল্লাহ।
আর এই লিখিত অভিযোগের আসন্ন তদন্ত ও বিভাগীয় শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য ২ সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজী মামলা দিয়ে তাদের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কি কোন লাভ হবে? না, যেহেতু ঐ দিনের সংবাদটি সংবাদপত্র ও সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ রয়েছে অতএব সেগুলোই সাংবাদিকদের পক্ষে কথা বলবে।
মাগুরাবাসী চান দুষ্টের রক্ষকের ভুমিকায় অবতীর্ণ না হয়ে মাগুরার প্রশাসন তাদের দমনের ভুমিকায় অবতীর্ণ হোক।
যে ২ সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজী মামলা দেওয়া হয়েছে সেটি প্রত্যাহার করা হোক। সাংবাদিকদের মর্যাদা হানি করা হলে তার পরিণাম শুভ হয় না। সরকারি কর্মকর্তাদের সব সময় সাংবাদিক বান্ধব হওয়া জরুরি।
আমরা আশা করি বুনাগিতি ইউনিয়নের চাউল চুরির ঘটনা ও সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনাটি তদন্ত সরকারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। যারা দোষী তাদেরকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা সংস্কৃতি মন্ত্রী এড: নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রীর তড়িৎ পদক্ষেপ কামনা করেছেন।









