দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আলমগীর খানের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
গণপূর্ত অধিদপ্তরে চাকরি পাওয়া মানেই দুর্নীতি করে কিছু দিনের মধ্যে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে বনে যাওয়া। এমনই অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের বিরুদ্ধে।
তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে কোটি টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাত করেছেন অভিযোগ উঠেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াই বিপুল অঙ্কের অর্থ বিল পরিশোধ, সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন, ভুয়া জনবল দেখিয়ে অর্থ লুটপাট এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।
মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ ৬, ঢাকা-এর আওতায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প অনুযায়ী ৩টি ১৬-চ্যানেল ডিডিআর, ১২টি পিটিজেড (চঞত) সিসি ক্যামেরা, ১০টি ডে-নাইট ভিশন ক্যামেরা ও ৩টি ডিসপ্লে মনিটরসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপনের কথা ছিল।
কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, এসব ক্যামেরার বড় অংশই কার্যকর নয়, অনেক যন্ত্রপাতি ব্যবহার অযোগ্য ও অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ক্যামেরা স্থাপনই করা হয়নি। এরপরও কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়—যা সরকারি আর্থিক বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
এছাড়া, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর পত্র স্মারক নং–৩৫০২ (তারিখ: ১৪-০৬-২০১৬) এবং স্মারক নং–৩৫০৭ ও ৩৫০৮ (তারিখ: ১৫-০৬-২০১৬) এর মাধ্যমে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে একই ঠিকাদারকে তিনটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এটি সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুযায়ী গুরুতর অনিয়ম। এতে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে বেআইনিভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই কার্যাদেশ ও বিল ছাড়ের নেপথ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল।
তথ্যমতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ ৮ এ মাত্র দুটি সরকারি গাড়ি থাকলেও বেতন দেখানো হয়েছে ৩১ জন চালকের। এই খাতে বছরে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই ভুয়া ব্যয় ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া,অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী বিভাগে পর্যাপ্ত স্থায়ী জনবল থাকার পরও দৈনিক মজুরি ও চুক্তিভিত্তিক অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেখানো হয়েছে। এতে সরকারের আর্থিক অপচয় হচ্ছে এবং এটি একটি পরিকল্পিত লুটপাটের কৌশল বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট একটি মহল।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে অন্যান্য বিষয়ে গুরুতর অনিয়ম স্পষ্টভাবে ধরা পড়লেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেন এত বড় অনিয়মের পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—তা নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরেই প্রশ্ন ও রহস্য তৈরি হয়েছে।
একটি ঘণিষ্ঠ সূত্র জননিয়েছে, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে মো. আলমগীর খান ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায়— একাধিক বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট ক্রয় করেছেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম ঢাকা জোন দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বছরের পর বছর ধরে জবাবদিহির বাইরে থেকে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব বিষয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।









