চাকরি থেকে অব্যাহতির পরও মোহনা টিভির অফিস দখলে এম এ মালেক!
- আপডেট সময় : ০৯:২১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার পরও মোহনা টিভির অফিস দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এম এ মালেকের বিরুদ্ধে। এতে করে চ্যানেলটির সংবাদ সম্প্রচার, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মীরা।
মোহনা টিভি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আজমাত রহমান স্বাক্ষরিত একটি লিখিত চিঠির মাধ্যমে এম এ মালেককে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। ওই চিঠিতে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয় এবং এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
চিঠিতে কী লেখা আছে
অব্যাহতির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এম এ মালেক দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে শৃঙ্খলাভঙ্গ, কর্মীদের মধ্যে কোন্দল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং নতুন ব্যবস্থাপনা পরিষদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে লিপ্ত ছিলেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, তিনি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে বিভিন্ন সময়ে অনুমতি ছাড়া অফিসে অবস্থান করেছেন এবং নিয়মিত দাপ্তরিক কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, তার আচরণের কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে, কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং সংবাদ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি, মানবতাবিরোধী ও ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত কিছু আসামির সঙ্গে যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করা হয়।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয় এবং অবিলম্বে অফিস ও দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অব্যাহতির পরও অফিস দখল
তবে অভিযোগ উঠেছে, লিখিতভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও এম এ মালেক অফিস ছাড়েননি। বরং অফিস দখলে রেখে কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন বলে দাবি করেছেন একাধিক কর্মচারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী জানান, অব্যাহত এই পরিস্থিতির কারণে তারা মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এম এ মালেক নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা বলছেন এবং বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নাম ভাঙিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন। কর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কথা বলে তিনি অফিস ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন।
তবে মোহনা টিভি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি একটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাজনিত ও প্রশাসনিক বিষয়। কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিচয়ের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই এবং দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে সেটির দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেই বহন করবেন।
আইনগত পদক্ষেপের প্রস্তুতি
মোহনা টিভি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অব্যাহতির আদেশ অমান্য করে অফিস দখলে রাখা বেআইনি। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে। এদিকে, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভেতরে এ ধরনের দখলদারিত্ব ও বিশৃঙ্খলা শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, সংবাদ পরিবেশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাভাবিক ধারাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঘটনার দ্রুত সমাধান এবং অফিস মুক্ত করে স্বাভাবিক দাপ্তরিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন মোহনা টিভির কর্মীরা।









