১১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণপূর্তের প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০১:৪২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দার। তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও অঢেল সম্পদের মালিক

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুবায়ের বিন হায়দার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৩৩/সি আসাদ এভিনিউ রোডে প্রায় ২২০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ ইটনা থানায় তার জমি রয়েছে এবং পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। তার পারিবারিকভাবে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল অবস্থা থেকে এই বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

টেন্ডার ও সরকারি প্রকল্পে কারসাজি

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রের অভিযোগ, প্রকৌশলী জুবায়ের অধিদপ্তরের সার্কেল-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব খাটাতেন। ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে তিনি সরকারি প্রকল্পে কারসাজি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি টাকার বিলে অনিয়মের প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেখানে যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও কাজের মান নিয়ন্ত্রণেও বড় ধরনের কারসাজির তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন”।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সরকারি কর্মকর্তার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে অস্বাভাবিক অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(বিস্তারিত আসছে আগামী পর্বে)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গণপূর্তের প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:৪২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দার। তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও অঢেল সম্পদের মালিক

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুবায়ের বিন হায়দার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৩৩/সি আসাদ এভিনিউ রোডে প্রায় ২২০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ ইটনা থানায় তার জমি রয়েছে এবং পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। তার পারিবারিকভাবে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল অবস্থা থেকে এই বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

টেন্ডার ও সরকারি প্রকল্পে কারসাজি

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রের অভিযোগ, প্রকৌশলী জুবায়ের অধিদপ্তরের সার্কেল-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব খাটাতেন। ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে তিনি সরকারি প্রকল্পে কারসাজি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি টাকার বিলে অনিয়মের প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেখানে যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও কাজের মান নিয়ন্ত্রণেও বড় ধরনের কারসাজির তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন”।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সরকারি কর্মকর্তার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে অস্বাভাবিক অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(বিস্তারিত আসছে আগামী পর্বে)