তদন্ত শেষে আইনি অবসান
দুদক থেকে অব্যাহতি পেলেন খুলনা নেভাল এরিয়া কমান্ডার গোলাম সাদেক
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে থাকাকালীন প্রতিষ্ঠানটির ৩৬ ড্রেজার প্রকল্প এবং আরিচা বন্দরকেন্দ্রিক ঘাট ইজারার টেন্ডারে দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম সাদেকের বিরুদ্ধে। এমনকি নৌবাহিনীর এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনেরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ থেকে রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম সাদেককে দায়মুক্তি দিয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে গত ১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর পাঠানো এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অব্যাহতির বিষয়ে একটি নথি দুবাই ভিত্তিক গণমাধ্যম “টেলিগ্রাম নিউজ২৪.নেট” এর প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
দুদকের সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম সাদেকের বিরুদ্ধে ওঠা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত (অবৈধ) সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় তা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিসমাপ্তি (নথিভুক্ত) ঘোষণা করে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে কমিশন।
দুদকের পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি অনুসন্ধানকালে প্রমাণিত না হওয়ায় কমিশন কর্তৃক তা পরিসমাপ্ত করা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর খুলনা নেভাল এরিয়া কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল (সাবেক কমোডর) গোলাম সাদেকের বিরুদ্ধে অবৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পদ অর্জনের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয় (নথি নং ০০.০১.০০০০.৫০৫.০১.০৩৯.২৪)। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল হায়াত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা (আইও) হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আয়ের উৎসের বাইরে কোনো অবৈধ সম্পদের প্রমাণ না মেলায় দুদক আইন অনুযায়ী অভিযোগটির সমাপ্তি টানা হয়।
দুদকের উপপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩) মো. জাকারিয়া স্বাক্ষরিত আদেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে জারি করা হয়। এর ফলে রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম সাদেকের বিরুদ্ধে ওঠা দীর্ঘদিনের এই অভিযোগের আইনি অবসান ঘটল।
সূত্র জানিয়েছে, গোলাম সাদেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। ওই অভিযোগে আরিচা নদীবন্দরের নগরবাড়ী, কাজিরহাট, নরাদহ বন্দর এলাকায় (এলএসসি) শুল্ক আদায় কেন্দ্র ঘাট ইজারা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগ অনুসন্ধান করে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই অভিযোগ থেকেও গোলাম সাদেকসহ ১৩ জনকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি পরিসমাপ্ত করেছে দুদক।
অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া অপর ব্যক্তিরা হলেন— বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) মো. দেলওয়ার হোসেন, প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ জাফর হাওলাদার, বন্দর ও পরিবহন বিভাগের সাবেক পরিচালক কাজী ওয়াকিল নওয়াজ, একই বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম পরিচালক জুলফা খানম, উপপরিচালক (ইজারা) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আরিচা নদীবন্দরের সাবেক উপপরিচালক মো. সেলিম রেজা, মো. কবির হোসেনসহ মোট ১৩ জন।
দুদকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (ম্যাজিস্ট্রেসি-নীতি শাখা) ছাড়াও সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
চিঠির অনুলিপি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত), রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম সাদেকের (সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি) কাছে পাঠানো হয়েছে বলে নথিতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, লেফটেন্যান্ট পদে থাকাকালীন নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের এইড-ডি-ক্যাম্প ছিলেন গোলাম সাদেক। একই পদে থাকাকালীন গোলাম সাদেক একটি অফশোর মিসাইল ক্রাফটের কমান্ডে ছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি একটি যুদ্ধজাহাজ, দুটি প্যাট্রোল ক্রাফট, একটি অফশোর ভেসেল এবং একটি মাইনসুইপার ক্রাফটের কমান্ডে ছিলেন। এ ছাড়া সাদেক দুটি নৌঘাঁটি, স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডাইভিং অ্যান্ড স্যালভেজ এবং বাংলাদেশ নৌ একাডেমির কমান্ডে ছিলেন।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে গোলাম সাদেক কমোডর পদে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হন। ২০২৩ সালের মার্চে সাদেক রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পান এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের সিনিয়র ডিরেক্টিং স্টাফ (নৌবাহিনী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর খুলনা নেভাল এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।









