০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষোভে ফুঁসছে গণপূর্ত অধিদপ্তর

প্রধান প্রকৌশলীর আশীর্বাদে বিতর্কিত মাহবুবুল হককে পদোন্নতি দেওয়ার চক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতি ও অডিট আপত্তির মুখে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল-৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরীকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার জোরালো প্রক্রিয়া চলছে। এই পদোন্নতির পদক্ষেপে অধিদপ্তরজুড়ে সাধারণ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা-১ থেকে জারীকৃত একটি প্রস্তাবপত্রে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) পদে কর্মরত একজন কর্মকর্তা আগামী ১ সেপ্টেম্বর অবসরে যাওয়ায় শূন্য হওয়া পদে মাহবুবুর হক চৌধুরীকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিতর্কিত বিল ও নানা দুর্নীতি

অনুসন্ধানে জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার সিন্ডিকেট এবং বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর একটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ১৭ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৪৪ টাকার বিল অনুমোদনে ব্যাপক অসঙ্গতি। এ ছাড়া সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন কিছু ক্রয় কার্যক্রমেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিনের টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি অর্জনের তথ্যও মিলেছে।

প্রতিকারহীন অভিযোগ ও দুদকের নিষ্ক্রিয়তা

ভুক্তভোগী ঠিকাদার আলাউদ্দিন ওয়াজেদসহ বেশ কয়েকজন ঠিকাদার এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এমনকি সদ্য সাবেক মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকটও লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি তারা।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও অডিট আপত্তি মাথায় নিয়ে একজন বিতর্কিত কর্মকর্তা কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি পান? এটি পুরো ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি প্রকল্পে বড় অঙ্কের আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ক্ষোভে ফুঁসছে গণপূর্ত অধিদপ্তর

প্রধান প্রকৌশলীর আশীর্বাদে বিতর্কিত মাহবুবুল হককে পদোন্নতি দেওয়ার চক্রান্ত

আপডেট সময় : ১০:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতি ও অডিট আপত্তির মুখে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল-৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরীকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার জোরালো প্রক্রিয়া চলছে। এই পদোন্নতির পদক্ষেপে অধিদপ্তরজুড়ে সাধারণ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা-১ থেকে জারীকৃত একটি প্রস্তাবপত্রে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) পদে কর্মরত একজন কর্মকর্তা আগামী ১ সেপ্টেম্বর অবসরে যাওয়ায় শূন্য হওয়া পদে মাহবুবুর হক চৌধুরীকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিতর্কিত বিল ও নানা দুর্নীতি

অনুসন্ধানে জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার সিন্ডিকেট এবং বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর একটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ১৭ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৪৪ টাকার বিল অনুমোদনে ব্যাপক অসঙ্গতি। এ ছাড়া সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন কিছু ক্রয় কার্যক্রমেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিনের টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি অর্জনের তথ্যও মিলেছে।

প্রতিকারহীন অভিযোগ ও দুদকের নিষ্ক্রিয়তা

ভুক্তভোগী ঠিকাদার আলাউদ্দিন ওয়াজেদসহ বেশ কয়েকজন ঠিকাদার এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এমনকি সদ্য সাবেক মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকটও লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি তারা।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও অডিট আপত্তি মাথায় নিয়ে একজন বিতর্কিত কর্মকর্তা কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি পান? এটি পুরো ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি প্রকল্পে বড় অঙ্কের আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।