০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফ্যাসিস্ট-আমলা সিন্ডিকেট!

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করছেন না সচিব কামরুজ্জামান। তিনি ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠন করে তাদের মাধ্যমে নিজের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন। যে কারণে ঘুস ছাড়া কোন ফাইল স্বাক্ষর করছেন না সচিব কামরুজ্জামান। এতে করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফাইল জট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে সারাদেশের স্বাস্থ্য সেক্টরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, সচিব সিন্ডিকেট সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে এই পন্থা অবলম্বন করছেন। এখনি এই সচিব সিন্ডিকেট ভেংগে না দিলে তারা সরকারকে বড় ধরণের বেকায়দায় ফেলতে পারে বলে আশংকা করছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগি কিছু ফ্যাসিবাদের দোসর নিয়ে সচিব কামরুজ্জামান একটি সিন্ডিকেট গঠন করে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ,বদলী,টেন্ডারসহ যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনের কোন ধার ধারছেন না।

এতোদিন অতিরিক্ত সচিব নায়েব আলীর মাধ্যমে সিএমএসডি’র কেনাকাটায় বড় কমিশন পেতেন সচিব কামরুজ্জামান। কিন্তু মূখ্য সচিবের ভাগ্নে পরিচালক হওয়ায় সচিবের বাড়া ভাতে ছাই পড়েছে। পিএস ইফতেখার ও এপিএস মোস্তাফিজ নথি চেক করো (ভুয়া নথি) ফেরত দেন। সে কারণে সচিব একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় মিথ্যা নিউজ ছাপিয়ে সেটিকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সচিব কামরুজ্জামান ৮০% ৯০% ফাইল নিজেই শেষ করেন। অনেক নথি স্বাক্ষী আছে যে, সচিব নিজেই ফাইল অনুমোদন করে উপরে না পাঠিয়ে নিচে পাঠিয়ে দেন।

জুলাই আন্দোলন দমনে গুলির নির্দেশদাতা খন্দকার রবিউল ইসলামের বদলি হলেও সচিব কামরুজ্জামান তার প্রিয় ও আস্থাভাজন এ কর্মকর্তাকে রহস্যজনক কারণে রিলিজ করছেন না। অন্যদিকে, তার পিএস সাকিব ও সুজিৎ দেবনাথের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

আওয়ামী আমলের বগুড়ার ডিসি ও সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের পিএস নুরে আলম সিদ্দিকী, বাগেরহাট ও কক্সবাজারের ডিসি মামুনুর রশিদ, লক্ষীপুরের ডিসি আনোয়ার হোসেন আকন্দ, রংপুরের ডিসি আসিফ আহসান, ফ্যাসিস্টের দোসর যুগ্মসচিব মোহাম্মাদ আলী, অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনিকে সরানোর কোনো চেষ্টা তিনি করছেন না। কারণ যে গাভী দুধ দেয়,তার লাথি খেতে কিসের আপত্তি। তিনি এসব আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তাদের জামাই আদরে রেখেছেন।
সচিব কামরুজ্জামান তার এই সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ফলে আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের বদলি ও পদোন্নতিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে আরো জানা গেছে, সচিব কামরুজ্জামান বুঝতে পেরেছেন যে, তার চুক্তিভিত্তিক চাকুরীর মেয়াদ আর বৃদ্ধি করবে না সরকার। সে কারণেই তিনি তার সিন্ডিকেট নিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে একটার পর একটা আদেশ জারি করে চলেছেন। আবার অর্থ বিনিয়োগ করে পত্রিকায় মিথ্যা নিউজ ছাপিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সচিব কামরুজ্জামান এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

মন্ত্রণালয়ের টিএন্ডটি ফোনে কল দিলে তার পিএস বলেন, স্যার জরুরী মিটিং এ আছেন। আপনি পরে কল করুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফ্যাসিস্ট-আমলা সিন্ডিকেট!

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করছেন না সচিব কামরুজ্জামান। তিনি ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠন করে তাদের মাধ্যমে নিজের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন। যে কারণে ঘুস ছাড়া কোন ফাইল স্বাক্ষর করছেন না সচিব কামরুজ্জামান। এতে করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফাইল জট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে সারাদেশের স্বাস্থ্য সেক্টরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, সচিব সিন্ডিকেট সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে এই পন্থা অবলম্বন করছেন। এখনি এই সচিব সিন্ডিকেট ভেংগে না দিলে তারা সরকারকে বড় ধরণের বেকায়দায় ফেলতে পারে বলে আশংকা করছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগি কিছু ফ্যাসিবাদের দোসর নিয়ে সচিব কামরুজ্জামান একটি সিন্ডিকেট গঠন করে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ,বদলী,টেন্ডারসহ যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনের কোন ধার ধারছেন না।

এতোদিন অতিরিক্ত সচিব নায়েব আলীর মাধ্যমে সিএমএসডি’র কেনাকাটায় বড় কমিশন পেতেন সচিব কামরুজ্জামান। কিন্তু মূখ্য সচিবের ভাগ্নে পরিচালক হওয়ায় সচিবের বাড়া ভাতে ছাই পড়েছে। পিএস ইফতেখার ও এপিএস মোস্তাফিজ নথি চেক করো (ভুয়া নথি) ফেরত দেন। সে কারণে সচিব একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় মিথ্যা নিউজ ছাপিয়ে সেটিকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সচিব কামরুজ্জামান ৮০% ৯০% ফাইল নিজেই শেষ করেন। অনেক নথি স্বাক্ষী আছে যে, সচিব নিজেই ফাইল অনুমোদন করে উপরে না পাঠিয়ে নিচে পাঠিয়ে দেন।

জুলাই আন্দোলন দমনে গুলির নির্দেশদাতা খন্দকার রবিউল ইসলামের বদলি হলেও সচিব কামরুজ্জামান তার প্রিয় ও আস্থাভাজন এ কর্মকর্তাকে রহস্যজনক কারণে রিলিজ করছেন না। অন্যদিকে, তার পিএস সাকিব ও সুজিৎ দেবনাথের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

আওয়ামী আমলের বগুড়ার ডিসি ও সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের পিএস নুরে আলম সিদ্দিকী, বাগেরহাট ও কক্সবাজারের ডিসি মামুনুর রশিদ, লক্ষীপুরের ডিসি আনোয়ার হোসেন আকন্দ, রংপুরের ডিসি আসিফ আহসান, ফ্যাসিস্টের দোসর যুগ্মসচিব মোহাম্মাদ আলী, অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনিকে সরানোর কোনো চেষ্টা তিনি করছেন না। কারণ যে গাভী দুধ দেয়,তার লাথি খেতে কিসের আপত্তি। তিনি এসব আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তাদের জামাই আদরে রেখেছেন।
সচিব কামরুজ্জামান তার এই সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ফলে আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের বদলি ও পদোন্নতিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে আরো জানা গেছে, সচিব কামরুজ্জামান বুঝতে পেরেছেন যে, তার চুক্তিভিত্তিক চাকুরীর মেয়াদ আর বৃদ্ধি করবে না সরকার। সে কারণেই তিনি তার সিন্ডিকেট নিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে একটার পর একটা আদেশ জারি করে চলেছেন। আবার অর্থ বিনিয়োগ করে পত্রিকায় মিথ্যা নিউজ ছাপিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সচিব কামরুজ্জামান এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

মন্ত্রণালয়ের টিএন্ডটি ফোনে কল দিলে তার পিএস বলেন, স্যার জরুরী মিটিং এ আছেন। আপনি পরে কল করুন।